জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো চিন্তা করা উচিত

‘দোস্ত, মেয়েটার কণ্ঠ যে কি জোশ! জাস্ট ওয়াও!! ….. মনে হয় এই কন্ঠ শুনেই আমি সারাটা জনম কাটিয়ে দিতে পারবো……’

‘আরে শোন, তুই জানিস না। মেয়েটা দেখতে এত্তো সুন্দরী যে, ওর দিকে অপলক তাকিয়ে থেকে আমি আমার জীবন পার করে দিতে পারবো।’

জীবনে যেসব বন্ধুদের কাছে এরকম মধুমাখা, আতিশয্যে ভরা, অতি মাত্রায় আবেগী কথাবার্তা শুনেছি, তাদেরকে বলেছি- কারো সুন্দর কন্ঠই যদি তোর জীবনের সবকিছু হয়, তাহলে এক কাজ কর, কাস্টমার কেয়ার কিংবা এফ.এম রেডিও তে যারা জব করে, সেরকম কোন মেয়েকেই বিয়ে কর। বেশি কিছু তো আর চাওয়া নেই তোর। খালি মধুর কন্ঠ হলেই হয়।

দ্বিতীয়জনকে বলেছিলাম- চেহারার সৌন্দর্যই যদি তোর কাছে সব হয়, তাহলে ফ্যাশন শো করে বেড়ায় এরকম কাউকে বিয়ে করে ফেল। ব্যস! চেহারা দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে যাবি, আবার ঘুম থেকে উঠেই চেহারা দেখতে বসে যাবি। আর তো কিছু চাই না।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখলাম, যারাই ‘জোশ কন্ঠ’ আর ‘চাঁদের মতো দেখতে’ ক্রাইটেরিয়া প্রাধান্য দিয়ে বিয়ে করেছে, বিয়ের কিছুদিন পর তাদের সেই জোশ কন্ঠ ‘কর্কশ কন্ঠে’ এবং চাঁদমুখ ‘পেঁচামুখে’ পরিণত হতে খুব বেশিদিন লাগে না। এর কারণ কী? এর কারণ হলো আবেগ। আর আবেগ সর্বদা ক্ষণস্থায়ী। মোহ কেটে গেলে মনে হবে সব বিস্বাদ।

যারা বিয়ের আগে ‘প্রেম-ভালোবাসায়’ বিশ্বাসী, তারা তাদের প্রিয়তমার সেজেগুঁজে, খোপায় ফুল দেওয়া রূপটাই দেখে। সকালে ঘুম থেকে জাগার পরে তার পেত্নীর (কেউ আঘাত পেলে দুঃখিত) মতো রূপটা বিয়ের আগে দেখার তো বেচারার সৌভাগ্য হয় না। আবার, সেই প্রিয়তমারা তাদের প্রিয়তমদের জিন্স, শার্ট আর সানগ্লাসে মোড়ানো অবয়বের সাথেই পরিচিত। নিজের রুমটাকে গোয়ালঘর বানিয়ে রাখার অভ্যাসটা তো এরা দেখে বিয়ের পরেই। সুতরাং, বিয়ের পর যখন মোহ কেটে যায়, তখন আফসোস করে বলে,- ‘কি এক জাহানাম্মের ডিব্বায় আইসা পড়লাম রে….’

যারা এসব অবৈধ সম্পর্কের ধার ধারেনা, সুন্নাহ মেনে বিয়ে করে, তাদের কাছে তাদের প্রিয়তম বা প্রিয়তমার দুই রূপটাই নতুন। তাই কারো মধ্যে কোনরকম আফসোস কাজ করেনা। এখানে মোহ কেটে যাবার পরেও বাড়তি একটা জিনিস থেকে যায়। সেটা হলো- ভালোবাসা।

কাউকে বিয়ে করার জন্য তার মধ্যে দ্বীন দেখাটা অবশ্যই ফরজ। কিন্তু, শুধুমাত্র ‘দ্বীন’ দেখেই কাউকে হুট করে বিয়ে করে বসাটা আমার মতে ঠিক নয়। জীবনসঙ্গী নির্বাচনে দ্বীনের পরে আরো বেশকিছু জিনিস দেখতে হবে। এরমধ্যে যেটা সবার আগে সেটা হলো- সাইকোলজি। এই সাইকোলজি এমন একটা জিনিস, যেটার কম্বিনেশন না হলে পুরো বৈবাহিক জীবনে পস্তাতে হবে।

যায়েদ (রাঃ) এবং জয়নব (রাঃ) এর মধ্যকার বিয়ের কথাই চিন্তা করুন। তাদের মধ্যে কী দ্বীনদারির কোন অভাব ছিলো? তবুও কেনো তাদের ডিভোর্স হয়?

এরকম ইমম্যাচিউর (বয়সের দিক থেকে) প্র্যাকটিসিং আপুরা হুটহাট বিয়ের ডিসিশন নিয়ে ফেলেন। আগ-পিছ কিছু ভাবেন না। ফলাফল হয় কী, বিয়ের পরে এসে দেখে স্বামীর পরিবার, চারপাশের পরিবেশ, আর্থিক অবস্থার সাথে উনি মানিয়ে নিতে পারছেন না, অথবা মানিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। এক্ষেত্রে ধৈর্য্য ধরতে পারলে তো আলহামদুলিল্লাহ্‌, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে নতুন নতুন দ্বীন প্র্যাকটিস করা আপুরা এই ধাক্কাটা সামলে উঠতে পারেন না। ফলে, ভুল বুঝেন নিজের স্বামীকে। একটা পর্যায়ে গিয়ে ডিভোর্স চান। ফলাফল- দু দু’টো জীবন হতাশার মধ্যে ডুবে যাওয়া।

নতুন নতুন দ্বীনে আসা ভাইয়া এবং আপুদের বলবো, বিয়ের ক্ষেত্রে সময় নিন। চিন্তা করুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন- আপনি যে পরিবেশে যাচ্ছেন, তার সাথে সমস্ত অবস্থায়, সমস্ত প্রতিকূলতায় মানিয়ে নিতে পারবেন কী? সবর করতে পারবেন কী? আপনি যে পারবেন, তা কি নিছক আপনার মুখের কথা না অন্তরের বিশ্বাস? আপনি আবার অন্য কারো জীবনকে ‘অনিশ্চিত’ গন্তব্যে ঠেলে দিচ্ছেন না তো?

Advertisements

সুখে থাকতে ভূতে কিলায়!

১. দেলোয়ার সাহেবের চলছিল ভালোই। বহুজাতিক কোম্পানির বড় চাকুরে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখের সংসার। অফিসের গাড়ি। সুন্দর ফ্ল্যাট। কোথাও কোনো খামতি নেই। কিন্তু তিনি চাইলেন তাড়াতাড়ি আরেকটু এগিয়ে যেতে। দু-একজন বন্ধুর পরামর্শে একটি ব্যবসায় কিছু টাকা লগ্নী করলেন। ছয় মাসের মাথায় আশাতীত লাভ। এরপর তিনি ব্যাংকের সমস্ত সঞ্চয় আর এর সঙ্গে অফিস থেকে বেশ কিছু টাকা অগ্রিম নিয়ে বড় অঙ্কের টাকা লগ্নী করলেন একই ব্যবসায়। কিন্তু এবার বিপদেই পড়ে গেলেন। পুরোটাই ক্ষতি। তার ওপর তিনি দেখলেন বন্ধুরা ব্যবসার কাগজপত্র বন্ধক নিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিল, সেই ‘বন্ধু’রা এখন লাপাত্তা। অফিসের অগ্রিম শোধ আর ব্যাংকের দেনা মেটাতে গিয়ে তিনি প্রায় কপর্দকশূন্য। বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়ে নিজেকে সবকিছু থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন, স্ত্রীর সঙ্গেও সারাক্ষণ খিটমিট লেগে থাকে।

২. সানিয়ার সমস্যাটা একটু অন্য রকম। বিয়ের বয়স ছয় বছর। স্বামী ব্যবসায়ী। বছর চারেকের একটি মেয়ে আছে তাঁদের। স্বামী-সন্তানের সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক সানিয়ার। মাঝখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ছেলের সঙ্গে পরিচয় হলো সানিয়ার। সাধারণ কুশল বিনিময় দিয়ে শুরু। এরপর ছেলেটির সঙ্গে তিনি জড়িয়ে পড়লেন প্রেমের সম্পর্কে! স্বামী যখন বিষয়গুলো জানতে পারলেন, তা নিয়ে সংসারে কুরুক্ষেত্র। দুজনের বিচ্ছেদ হয় হয় প্রায়। সানিয়া দুই-দুবার ঘুমের ওষুধ খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন।

দেলোয়ার আর সানিয়ার মতো সমস্যা অনেকেরই হয়। সুখী জীবনে তাঁরা একঘেঁয়ে বোধ করেন। আরও সুখ, বৈচিত্র্যময় সুখের খোঁজে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। শেষমেশ যেটুকু সুখ ছিল, তা-ও হারিয়ে ফেলেন তাঁরা।

সুখে থাকলেও বিভিন্ন কারণে মানুষের মনে অতৃপ্তি ভর করতে পারে। কখনো দেখা যায় চারপাশের নেতিবাচক মানুষেরা বুঝতেই দিচ্ছে না যে আপনি আসলে সুখে আছেন, শান্তিতে আছেন। তাঁরা আপনার ‘আছে’টাকে আড়াল করে ‘নাই’টুকুকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বড় করে দেখান। এই নেতিবাচক চিন্তার মানুষদের কারণে আপনি মনে করতে পারেন, ‘আরে, আমি তো সুখী নই।’ তখন আরও সুখ খুঁজতে গিয়ে বিপত্তি দেখা দেয়। আবার কখনো নিজের প্রকৃত জীবনকে আরেকজনের ‘বিজ্ঞাপিত’ জীবনের সঙ্গে তুলনা করে কেউ কেউ সুখহীনতায় ভোগেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রত্যেকেই নিজের আলোকিত দিকটি তুলে ধরেন, সফলতার বয়ান করেন, হাস্যোজ্জ্বল ছবি দেন। সেগুলো দেখে একজন সুখী মানুষ (যাঁর জীবনে সফলতা-ব্যর্থতা দুই আছে) ভাবেন, ‘আহা! অন্যরা আমার চাইতে কত সুখে আছে।’ কারণ তিনি তো ওই বিজ্ঞাপিত তথাকথিত সুখী মানুষের ব্যর্থতাটা জানেন না। এ সময় তিনি সেই হঠকারী বিষয়ে যুক্ত হয়ে আরও সুখী হতে চান। দিন শেষে ‘অসুখ’ তাঁদের ঘিরে ধরে।

ব্যক্তিত্বের একটি ধরন আছে, যাকে বলা হয় ‘টাইপ-এ’। তাঁরা সহজে তৃপ্ত হন না, সবকিছুতেই সেরা, সবার আগে থাকার বাসনা তাঁদের সুখগুলোকে কেড়ে নেয়। কোনো কারণে যদি কেউ নিজেকে গুটিয়ে রাখেন, একা হয়ে যান, তখন তিনি বুঝতে পারেন না যে আসলেই সুখে আছেন। একধরনের অস্তিত্বের সংকটে ভোগেন, লক্ষ্য স্থির করতে পারেন না। সুখ নামক সোনার হরিণের পেছনে ছুটতে ছুটতে নিজের অর্জন করা সুখগুলো পথে-ঘাটে হারিয়ে ফেলেন।

সুখের সংজ্ঞা বুঝতে যখন অসুবিধা হয়, তখন তিনি সুখে থেকেও নিজের অন্তর্দৃষ্টির অভাবে অসুখী বোধ করতে থাকেন। কখনো কৌতূহলের বশে, একটু সাময়িক মজা পেতে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করে ফেলেন, যা তাঁর সুখকে নষ্ট করে দেয়।

কারও মধ্যে সুখী হওয়ার সব উপাদান থাকার পরও যদি তাঁর আবেগ, সময় আর সম্পদের ওপর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে না পারেন, তখন তিনি নিজেকে অসুখী মনে করেন। তাঁর আবেগের অস্বাভাবিক প্রকাশ ঘটে, সময়ের সদ্ব্যবহার করতে পারেন না আর সম্পদের অপচয় করেন। নিজেকে সুখী থেকে অসুখীতে পরিণত করে ফেলেন।

কোনো ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত আর ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করে নিজের সুখটুকু নষ্ট করবেন না। আপনি যে সুখে আছেন, বিষয়টি বুঝতে পারাও একটা গুণ। এই গুণে গুণান্বিত হয়ে আপনি সুখে থাকুন, আশপাশের সবাইকেও সুখে রাখুন।

সুখের মধ্যে ‘ভূতের’ উপদ্রব থেকে কীভাবে রক্ষা পাবেন

১. নিজের লক্ষ্য স্থির রাখুন। ঘন ঘন জীবনের মোড় পরিবর্তন করার চেষ্টা করবেন না।

২. পরিবারকে সময় দিন। প্রিয়জনের সঙ্গে প্রতিদিন গুণগত সময় কাটান। পাশাপাশি প্রতিদিন একটু করে নিজেকে সময় দিন।

৩. আপনার আশপাশে যদি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ বেশি থাকে, তবে তাদের এড়িয়ে চলুন। মলিন, বিষাদময় আবেগাক্রান্ত মানুষের দ্বারা প্রভাবিত হবেন না।

৪. যে বিষয়টি সম্পর্কে আপনার স্বচ্ছ ধারণা নেই, সে বিষয়ে শ্রম বা অর্থ বিনিয়োগের আগে বিশদভাবে জানুন।

৫. আরেকজনের সুখের সঙ্গে নিজেকে কখনোই তুলনা করবেন না। আপনি হয়তো তার অসুখী জীবনের গল্পটাই জানেন না।

৬. একা থাকার অভ্যাস ছাড়ুন। উজ্জ্বল, প্রাণোচ্ছল মানুষের সান্নিধ্যে বেশি বেশি থাকার চেষ্টা করুন।

৭. নিজের ভেতরে যেসব গুণ আছে, আপনার জীবনের সেই মুক্তোদানাগুলো খুঁজে বের করুন। নিজের গুণের চর্চা করতে থাকুন।

৮. আত্মসমালোচনা করুন, কিন্তু কখনোই আত্মগ্লানিতে ভুগবেন না। মাথা উঁচু করে বাঁচুন। সততা আর নৈতিকতাকে জীবনে সুখী থাকার অন্যতম উপাদান হিসেবে যুক্ত করুন।

৯. খুব বেশি পেছনে ফিরে তাকাবেন না। মনে রাখবেন, আমাদের চোখ দুটো সামনে। সব সময় সামনের দিকে তাকাবেন। বর্তমানকে উপভোগ করবেন আর আগামী নিয়ে স্বপ্ন দেখবেন।

১০. সফলতার মতো ব্যর্থতাও যে জীবনের এক অনুসঙ্গ, তা বুঝতে শিখুন। ব্যর্থতাকে মেনে নেওয়ার চর্চা করুন।

১১. যেকোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ (যেমন অযাচিত-অবাঞ্ছিত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, মাদকের নেশা, ফাটকা ব্যবসা, জুয়া ইত্যাদি) এড়িয়ে চলুন।

১২. শিশুদের ভালোবাসুন। আপনার সন্তানসহ সব শিশুকে ভালোবাসতে শিখলে সুখ আপনাকে ধরা দেবেই।

উৎস: প্রথম আলো

সুখী থাকার ১০টি সহজ উপায়

১. নেতিবাচক চিন্তা আর নয়
আগামীকাল পরীক্ষা আর আজ রাতে আপনার মনে ভিড় করল হাজারো দুশ্চিন্তা, যার অধিকাংশই নেতিবাচক। খুব সহজ ভাষায় এ ধরনের চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। শুধু এমন চিন্তাই নয়, নেতিবাচক মানুষ এবং আলোচনা থেকেও সরে আসুন। কেননা, আপনার পরিধি নিজেই বুঝবেন, অন্যের কথায় সহজেই প্রভাবিত হওয়ার কিছু নেই।

২. নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা না করা
‘ওর ওটা আছে, আমার নেই কেন’—এ ধরনের চিন্তা আপনার নিজ মানসিক শক্তিকেই কমিয়ে দেয়। এমনকি দীর্ঘ মেয়াদে আপনার মধ্যে হতাশা কাজ করবে। তাই মনে রাখুন, সবার প্রতিভা এক নয়। কারও হয়তো পড়াশোনায় মেধা আছে, আবার কারও খেলাধুলায়। তাই চেষ্টা করুন নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করার।

৩. ইতিবাচক থাকুন
আপনি কাজটা যেভাবে করবেন, তার ফলটাও সে রকমই হবে। এটা মাথায় রেখেই কাজে লেগে পড়ুন। শেষ বিকেলে কী হবে তার জন্য চিন্তা না করে নিজেকে আশ্বাস দিন। প্রতিটি ঘটনারই দুটি দিক থাকে—ইতিবাচক ও নেতিবাচক। চেষ্টা করুন সব সময় ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে বের করার। এর ভালো দিকটা আপনি নিজেই দেখতে পাবেন।

৪. ঠিকমতো খাবার ও ঘুম
শরীর ও মন একটি আরেকটির ওপর নির্ভরশীল। তাই একটি নির্দিষ্ট রুটিন অনুযায়ী চলার চেষ্টা করুন। যেমন পরিমিত পরিমাণে খাবার ও ঘুম। এ ছাড়া প্রতিদিন সকালে কিংবা সন্ধ্যায় শারীরিক ব্যায়াম বা ইয়োগা করতে পারেন। এতে দুশ্চিন্তা অনেকটাই লাঘব হয়।

৫. নিজেকে ভালোবাসুন
সবার আগে নিজেকে ভালোবাসতে শিখুন। সময় বরাদ্দ রাখুন কিছুটা নিজেরও জন্য। আপনার প্রিয় মানুষটি কাছে নেই? আপনি নিজেই ব্যস্ত হয়ে পড়ুন না! ঘুরে আসুন কোথাও কিংবা শখের বিষয়গুলো চর্চা করুন। কিংবা পরিবারের সবার জন্য কিছু একটা রান্না করে ফেলুন ঝটপট।

৬. পরিবার ও বন্ধুর সঙ্গে সময় উপভোগ
বন্ধুমহল কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। তাদের সঙ্গে আলোচনা করুন। এতে দুই পক্ষই খুশি হবে। এমন অনেক ব্যাপার থাকে, যা আমরা প্রিয় মানুষটির চেয়ে বন্ধুটির কাছে প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। তাই কিছুটা সময় বন্ধু মানুষটির সঙ্গে বেড়িয়ে আসুন।

৭. কিছু বিষয়কে যেতে দিন
সব কাজেই যে প্রথম হতে হবে এমন চিন্তা ঝেড়ে ফেলুন। প্রতিটা কাজেই সময় নিয়ে চিন্তা করুন এবং মনে করুন, ‘সামনে ভালো কিছু অপেক্ষা করছে।’

৮. কৃতজ্ঞ থাকুন
দিন শেষে যখন নীড়ে ফিরবেন, তখন চিন্তা করুন আপনি কতটা সফল। অনেকেই আছেন, ঠিক আপনার জীবনটাই পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।

৯. অন্যের প্রতি সহযোগিতা
অনেকেই পাশের মানুষের ব্যবহারে কষ্ট পেয়ে থাকেন। কিন্তু ভেবে দেখার চেষ্টা করুন, সেই মানুষটি কেন এমন করেছেন। সমানুভূতি থেকেই এমনটি করা সম্ভব। তাই সব সময় নিজের ব্যাপারগুলো না দেখে অন্যদের সমস্যাগুলোও বোঝার চেষ্টা করুন।

১০. আস্থা রাখুন নিজের ওপর
যত যাই হোক, নিজেকে বোঝার ক্ষমতা আপনারই আছে। সব নেতিবাচকতা এড়িয়ে নিজেকে অভয় দিন, ‘দিন শেষে আমিই জয়ী!’

উৎস: প্রথম আলো

কালিজিরার বৈশিষ্ট এবং এর স্বাস্থ্যগত গুনাগুন

ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা কালিজিরাকে একটি অব্যর্থ রোগ নিরাময়ের উপকরণ হিসাবে বিশ্বাস করে। এর সাথে একটি হাদিস জড়িত আছে। হাদিসটি হলো— ‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “এ কালিজিরা সাম ব্যতীত সমস্ত রোগের নিরাময়। আমি বললাম: সাম কি? তিনি বললেন: মৃত্যু!” [বুখারী: ৫৬৮৭]

কালিজিরার অনন্যা উপকারগুলো নিচে দেওয়া হলোঃ-

(১) রোগ প্রতিরোধে কালোজিরা: কালোজিরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। নিয়মিত কালোজিরা খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে। এটি যেকোনো জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে প্রস্তুত করে তোলে এবং সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।

(২) ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কালোজিরা: কালোজিরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের রক্তের গ্লুকোজ কমিয়ে দেয়। ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

(৩) রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কালোজিরা: কালোজিরা নিম্ন রক্তচাপ বৃদ্ধি করে স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দেহের কলেস্টোরল নিয়ন্ত্রণ করে উচ্চ রক্তচাপ হ্রাস করে শরীরে রক্তচাপের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখে।

(৪) যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি করে কালোজিরা: কালোজিরা নারী-পুরুষ উভয়ের যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন খাবারের সঙ্গে কালোজিরা খেলে পুরুষের স্পার্ম সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এটি পুরুষত্বহীনতা থেকে মুক্তির সম্ভাবনাও তৈরি করে।

(৫) স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে কালোজিরা: নিয়মিত কালোজিরা খেলে দেহে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। এতে করে মস্তিস্কে রক্ত সঞ্চালনের বৃদ্ধি ঘটে; যা আমাদের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

(৬) হাঁপানী রোগ উপশমে কালোজিরা: হাঁপানী বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা সমাধানে কালোজিরা দারুণ কাজ করে। প্রতিদিন কালোজিরার ভর্তা খেলে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা উপশম হয়।

(৭) পিঠে ব্যাথা দূর করে কালোজিরা: কালোজিরার থেকে তৈরি তেল আমাদের দেহে বাসা বাঁধা দীর্ঘমেয়াদী রিউমেটিক এবং পিঠে ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া সাধারণভাবে কালোজিরা খেলেও অনেক উপকার পাওয়া যায়।

(৮) শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে কালোজিরা: নিয়মিত কালোজিরা খাওয়ালে দ্রুত শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটে। কালোজিরা শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও অনেক কাজ করে।

(৯) চুলপড়া, মাথাব্যথা, অনিদ্রা, মাথা ঝিমঝিম করা, মুখশ্রী ও সৌন্দর্য রক্ষা, অবসন্নতা-দুর্বলতা, নিষ্কিয়তা ও অলসতা, আহারে অরুচি, মস্তিষ্কশক্তি তথা স্মরণশক্তি বাড়াতেও কালোজিরা উপযোগী।

(১০) চায়ের সাথে নিয়মিত কালোজিরা মিশিয়ে অথবা এর তেল বা আরক মিশিয়ে পান করলে হৃদরোগে যেমন উপকার হয়, তেমনি মেদ ও বিগলিত হয়।

(১১) মাথা ব্যথায় কপালে উভয় চিবুকে ও কানের পার্শ্ববর্তি স্থানে দৈনিক ৩/৪ বার কালোজিরা তেল মালিশ করলে উপকার পাওয়া যায়।

(১২) কফির সাথে কালোজিরা সেবনে স্নায়ুবিক উত্তেজনা দুরীভুত হয়।

(১৩) জ্বর, কফ, গায়ের ব্যথা দূর করার জন্য কালিজিরা যথেষ্ট উপকারী বন্ধু। এতে রয়েছে ক্ষুধা বাড়ানোর উপাদান। পেটের যাবতীয় রোগ-জীবাণু ও গ্যাস দূর করে ক্ষুধা বাড়ায়।

(১৪) কালিজিরায় রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোরিয়াল এজেন্ট, অর্থাৎ শরীরের রোগ-জীবাণু ধ্বংসকারী উপাদান। এই উপাদানের জন্য -শরীরে সহজে ঘা, ফোড়া, সংক্রামক রোগ (ছোঁয়াচে রোগ) হয় না।

(১৫) সন্তান প্রসবের পর কাঁচা কালিজিরা পিষে খেলে শিশু দুধ খেতে পাবে বেশি পরিমাণে।

(১৬) মধুসহ প্রতিদিন সকালে কালোজিরা সেবনে স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও সকল রোগ মহামারী হতে রক্ষা পাওয়া যায়।

(১৭) দাঁতে ব্যথা হলে কুসুম গরম পানিতে কালিজিরা দিয়ে কুলি করলে ব্যথা কমে; জিহ্বা, তালু, দাঁতের মাড়ির জীবাণু মরে।

(১৮) কালিজিরা কৃমি দূর করার জন্য কাজ করে।

(১৯) দেহের কাটা-ছেঁড়া শুকানোর জন্য কাজ করে।

(২০) নারীর ঋতুস্রাবজনীত সমস্যায় কালিজিরা বাটা খেলে উপকার পাওয়া যায়।

(২১) কালোজিরার যথাযথ ব্যবহারে দৈনন্দিন জীবনে বাড়তি শক্তি অজির্ত হয়। এর তেল ব্যবহারে রাতভর প্রশান্তিপর্ন নিদ্রা হয়।

(২২) প্রস্রাব বৃদ্ধির জন্য কালিজিরা খাওয়া হয়।

(২৩) কালোজিরা যৌন ব্যাধি ও স্নায়ুবিক দুর্বলতায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য অতি উতকৃষ্ট ঔষধ।

ভারতীয় ভিসা আবেদন অভিজ্ঞতা

কীভাবে শুরু করবেন?
প্রথমেই চলে যান এই লিংকে ক্লিক করার পরপরই একটা পেজ পেয়ে যাবেন। সেখানে ইন্ডিয়ান মিশন “Bangladesh-Dhaka” সিলেক্ট করেন, মেইল আইডি দেন তারপর কোন কারণে যেতে চাচ্ছেন সিলেক্ট করে “Continue” বাটনে ক্লিক করে দেন। (ঢাকাই সিলেক্ট করতে হবে এমন কোন কথা নাই, যার যেই মিশন কাছে সেইটা সিলেক্ট করতে পারেন, আমি ঢাকায় থাকি বলে ঢাকা করলাম)। মেইল আইডিটা দেখেন, সব ক্যাপিটাল লেটারে। এই পুরা ভিসা ফর্মে আপনি ইংরেজীতে যা-ই লিখেন সব অটোমেটিক ক্যাপিটাল ফর্মে চলে যাবে। চিন্তার কোন কারণ নাই। “Expected Date of Arrival” এই ঘরে এক মাস পরের (যেদিন ভিসা অ্যাপ্লিকেশন করলেন সেদিন থেকে) যে কোন একটি তারিখ দিয়ে দেন।

কন্টিনিউ ক্লিক করার সাথে সাথেই নিচের মত একটা ছবি পাবেন যেখানে একটা টেম্পোরারি আইডি আপনাকে প্রোভাইড করা হবে। এই টেম্পোরারি আইডিটা কপি করে রাখেন (ধরেন ফর্ম পূরণ করতে করতে হঠাৎ আপনার বাসায় লোডশেডিং হইল, অথবা ইন্টারনেট কানেকশন চলে গেল তাহলে আপনি এই টেম্পোরারি আইডি এই পেজে গিয়ে দিলেই যেখানে শেষ করছেন সেখান থেকেই শুরু করতে পারবেন, আবার প্রথম থেকে শুরু করা লাগবে না)।

এখন আসা যাক ফর্ম পূরণে। উপরের পেজে দেখেন ‘Surname’ আর ‘Given Name’ নামে দুইটা অপশন আছে। অনেকেই হাউ মাউ খাউ খাউ করেন যে, কোনটা দিবেন সার নেম আর কোনটা লিখবেন গিভেন নেম। আসেন সমস্যার সমাধান করি। আপনার পাসপোর্ট খানা হাতে নেন এরপর দেখেন খুব সুন্দর করে জিনিসগুলা লেখা আছে। (বলতে ভুলে গেছি, Visible Identification Mark এর ঘরে ‘NONE’ লিখে দিবেন; তবে যদি আপনার মুখে কাটা দাগ থাকে তাহলে ‘স্কার’ লিখে দিতে পারেন।)

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আপনার সিটিজেনশিপ নং/ন্যাশনাল আইডি। কোনটা দিবেন? প্রথমে দেখেন আপনার পাসপোর্ট এর ব্যক্তিগত নং এ কোন নাম্বারটা দেয়া আছে। ন্যাশনাল আইডি নাম্বার নাকি জন্মসনদের নাম্বার। এই নাম্বারটা ভিসা অ্যাপ্লিকেশনে হুবহু লিখে নেন। পরে যখন কাগজ সাবমিট করতে যাবেন তখন এই নম্বরের কপিটাই আপনাকে দিতে হবে। যদি সেটা ন্যশনাল আইডির নম্বর হয় তবে ন্যশনাল আইডির ফটোকপি দিবেন, আর জন্মসনদ হলে জন্মসনদের ফটোকপি দিবেন। (এটা কিন্ত ইম্পরট্যান্ট পার্ট, আপনার পাসপোর্টে আছে জন্মসনদের নাম্বার, কিন্ত আপনি ফিজিকালি ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট করার সময় দিলেন ন্যাশনাল আইডির ফটোকপি- তাহলে কিন্ত আপনার ফর্মই ওরা নিবে না।)

বাকি ডিটেইলস নরমালি পূরণ করেন। অযথা তাড়াহুড়া করবেন না, পাসপোর্ট দেখে দেখে ইনফরমেশন গুলো লেখেন, মুখস্থ লেখার দরকার নাই। সেদিন আমাদের সাথেই এক ভাইয়া তার কাগজে পাসপোর্ট ইস্যুর তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর এর জায়গায় ২৩ সেপ্টেম্বর লিখার কারণে তার ফর্ম কাটাকুটি করে ফিরিয়ে দিয়েছে। পাসপোর্ট কোথা থেকে ইস্যু করছেন সেইটা পাসপোর্ট এর ইনফরমেশন পেজেই লেখা আছে। অনেকে বুদ্ধি করে ’আগারগাঁও’ লিখেন এবং অযথা ধরা খান। অথচ পাসপোর্টে স্পষ্ট করেই লেখা থাকে ‘Issue from: DIP/Dhaka’; সুতরাং আপনি লিখবেন শুধু ‘Dhaka’।

এখন একটার পরে একটা ইনফরমেশন দিয়ে কন্টিনিউ করেন। পরের পেজ এসে যাবে। এই পার্টটা খুব খুব ইম্পরট্যান্ট কারণ বেশির ভাগের ভিসা রিজেক্ট হয় এই অংশে ভুল ইনফো দেয়ার কারণে।

এই অংশ পূরণের আগে আপনি যে বাসায় থাকেন সেই বাসার একটা বিদ্যুল বিল বা আপনার টেলিফোন বিল জোগাড় করেন। যদি একটাও হাতের কাছে না থাকে তাহলে বাসার বাড়িওয়ালার কাছে যেয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় বলেন, আংকেল একটা বিল দশ মিনিটের জন্য দেন। যদি বাড়িওয়ালাও বাসায় না থাকে তাহলে খালা-মামা-ফুফু-গার্লফ্রেন্ড যে কারো বাসার বিল জোগাড় করেন। (বিলের ফটোকপি জমা দিতে হবে, স্পষ্ট ফটোকপি না হলে এরা ঘ্যানঘ্যান করে, মাঝে মধ্যে মেইন কপিও রেখে দেয় তাই একটু কষ্ট করে স্পষ্ট ফটোকপি করাবেন)।

বিলের উপর যে ঠিকানাটুকু পাবেন হুবুহু, তা প্রেজেন্ট অ্যাড্রেসে লিখে ফেলেন। আবার বলছি প্রেজেন্ট অ্যাড্রেসের ঘরে পাসপোর্ট এর প্রেজেন্ট অ্যাড্রেস লিখবেন না। যে বিলের কপি আপনার কাছে আছে (সেটা যার-ই হোক) সেটা দেখে হুবহু লিখবেন, কিছু বাদও দিবেন না, কিছু বাড়াবেনও না। আর পার্মানেন্ট অ্যাড্রেস লিখে ফেলেন আপনার পাসপোর্ট দেখে দেখে। এইখানেও সেই একই কথা, যা আছে তা-ই লিখবেন। বাড়াবেনও না, কমাবেনও না।

এবার ঠিক নিচেই পাবেন ফ্যামিলি ডিটেইলস এর ঘর, এই ঘরে ‘Previous Nationality’ নামের একটা ব্যাপার আছে। ঘরটা পূরণ করা ম্যান্ডাটরি না, এই কারণে অনেকে পূরণ করেন না। কিন্ত আপনি অবশ্যই করবেন এবং ওই ঘরে ‘বাংলাদেশি’ সিলেক্ট করে দিবেন।

ব্যাস এভাবে একের পর এক ইনফরমেশন দিয়ে চলে যান পরের পেজে। এর পরের পেজে আপনার দুইটা রেফারেন্স নম্বর চাইবে। একটা ইন্ডিয়ান, একটা দেশি। দেশি যাকে ইচ্ছা তাকে রেফারেন্স দেন, আর বিদেশের জন্য ইন্ডিয়ান যে কোন একটা হোটেলের অ্যাড্রেস আর ফোন নাম্বার কপি করে দিয়ে দেন (গুগলে সার্চ দিলেই পাবেন)।

হাতের কাছে আপনার ছবির একটা সফট কপি রাখেন (২/২ হতে হবে, যে কোন স্টুডিও তে যেয়ে বলবেন ভিসা করব তাই ছবির হার্ড কপির সাথে সফট কপিও লাগবে)। ছবি অবশ্যই সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে হতে হবে। ঝাপসা ছবি দিবেন না, একদম ল্যাব প্রিন্ট। অনেকে ছবি থেকে ছবি করান কম দামে, সে ছবি ঝাপসা হয়, ওই ছবি দিবেন না। ছবিতে চশমা পড়া থাকতে পারবেন না। ছবি আপলোড করার পর দেখবেন ‘Form Print’ এর একটা বাটন আসবে। বাটনে ক্লিক করার পরেই আপনার ফর্ম ডাউনলোড হয়ে যাবে। এইবার সেই ফর্ম একটা কালার প্রিন্ট করে নেন।

এবার আসা যাক এন্ডোর্সমেন্টে। মতিঝিলের যে কোন ব্যাংকে ১২-১৩ হাজার টাকা নিয়ে চলে যান। বলেন আপনি ডলার করবেন। ওনারা সেটা ডলার করে আপনার পাসপোর্ট এর পিছনে সিল মেরে দিবে আর সাথে একটা কাগজ দিয়ে দিবে। ফি নেবে ৩০০-৩৪৫ টাকা। নূন্যতম ১৫০ ডলার এন্ডোর্স করতে হয়। (ভুলেও মানি এক্সচেঞ্জে এন্ডোর্স করাবেন না, ইন্ডিয়ান ভিসা সেন্টার মানি এক্সচেঞ্জের এন্ডোর্স এখন গ্রহণ করে না)।

যদি আপনি আমার মত বুদ্ধিমান হন তাহলে আপনি আপনার ক্রেডিট কার্ড নিয়ে চলে যাবেন ব্যাংকে, যেয়ে অফিসারকে ভাব নিয়ে চাবায় চাবায় বলবেন আমি অ্যামেরিকায় ঘুরতে যাবো, আমার কার্ডটা এন্ডোর্স করে দেন। ওই অফিসার আপনার কাছে এক টাকাও চাইবে না, বিনামূল্যে আপনার ক্রেডিট কার্ড এন্ডোর্স করে দিবে। ওনাকে কোন ফি দিতে হবে না, আপনার ক্রেডিট কার্ডের অ্যাকাউন্টে একটা পয়সা না থাকলেও সমস্যা নাই। আর যাদের ক্রেডিট কার্ডও নাই, ১২/১৩ হাজার টাকাও এই মুহূর্তে নাই তারা বাবা/মা/ভাই/বোন (রক্ত সম্পর্কীয়) এর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এর স্টেটমেন্ট জমা দিলেই হবে। ব্যাংকে ১৫ হাজার টাকা থাকলেই হবে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট নিতে ১১৫ টাকা ফি দিতে হয়।

ব্যাস, এইবার আপনি রেডি। এইবার চেক করে নেন হাতের কাছে এই জিনিসগুলা আছে কিনা। (ভিসা অ্যাপ্লিকেশনের প্রিন্ট কপি, ন্যাশনাল আইডি/বার্থ রেজিস্ট্রেশনের কপি, কারেন্ট/ফোন বিল, স্টুডেন্ট হলে কলেজ/ইউনিভার্সিটির আইডি, পেশা হলে এনওসি+আইডি/ভিজিটিং কার্ড এর ফটোকপি, এন্ডোর্সমেন্ট পেজটার ফটোকপি, পাসপোর্ট এর ইনফরমেশন পেজের কপি।)

যদি সব রেডি থাকে তাহলে সরাসরি চলে যান এই লিংকে। এখানে যেয়ে আপনার সব ইনফরমেশন দিবেন। তারপর একটা ঘরে লেখা আসবে ‘Walk In/E-Token’; যেহেতু আমরা দালাল ধরে ই-টোকেন নেইনি তাই দিব “Walk In“। এরপর কন্টিনিউ বাটনে চাপ দিলে দেখাবে ৬১৮ টাকা ফি (৬০০+১৮ টাকা প্রসেসিং)। এরপর কার্ডে পে করে দেবেন। কার্ড না থাকলে বিকাশ/রকেট দিয়েও পে করতে পারবেন। অনেকেই এটা জানেন না, পরে ভিসা সেন্টারে যেয়ে আশেপাশের দোকান থেকে ফি জমা দেন। কোন দোকানে ৬৭০ রাখে, কোন দোকানে ৬৫০ টাকা রাখে। বাসায় বসে আপনিই যখন পারেন তখন ৪০ টাকা বেশি দেয়ার দরকারটা কী? আর দোকানে যেয়ে তাড়াহুড়ারই বা দরকারটা কী? (পে করার পর ফোনে একটা ম্যাসেজ আসবে আর পেমেন্ট এর একটা সফট কপি আসবে মেইলে, ওইটা প্রিন্ট করানোর দরকার নাই, দেখতে চাইবে না কেউ।)

এবার একদম নিজের অভিজ্ঞতাঃ
কাগজ-টাগজ নিয়ে চলে গেলাম শ্যামলী আইভ্যাকে সকাল ৮ টায়। যাওয়ার পর লাইন ধরলাম, এক ঘন্টা পরে ভিতরে ঢুকতে দিল, ঢুকানোর সময় হাতে একটা প্রিন্টেড কাগজ নাম্বারসহ। ভিতরে যেয়ে আরো ১৫ মিনিট বসলাম, কফি খেলাম (কফি, চা, রোল, বার্গার সবই আছে, নাম ২০ টাকা, ৪০ টাকা), এরপর সিরিয়াল ধরে ডাক দিল। জিজ্ঞেস করল কেন যাবেন? বললাম ঘুরতে। ব্যাস ওই ওইটুকুই। পাশের কাউন্টারে অবশ্য বন্ধুকে জিজ্ঞেস করছে কোথায় যাবেন, অনেকে আবেগ দেখায় বলে ফেলেন কাশ্মীর যাব, বলবেন না এইটা; আপনার ভিসা দরকার এখন, ভিসা পাওয়ার পর কাশ্মীর যান নাকি উত্তর প্রদেশ যান সেইটা আপনার ব্যাপার, ওদের সামনে এমন কিছুই বলবেন না যাতে ওনারা এখন নেগেটিভ চিন্তা করে, কাশ্মীর সিকিম এগুলা ইন্ডিয়ার খুব স্পর্শকাতর জায়গা, এদের নাম না নেয়াই ভালো।

এরপর একটা স্টিকার লাগায় দিয়ে আপনাকে একটা টোকেন ধরায় দিবে যেখানে লেখা থাকে কবে আপনার পাসপোর্ট ওনারা ফেরত দিবেন। পাসপোর্ট ওনারা রেখে দিলেই যে ভিসা পাবেন সেটা ১০০% শিওর না, কিন্ত ৯৭% শিওর। আপনি ফর্মের ভিতরে বড় সড় কোন ভুল না করলে ওনারা ভিসা দিয়ে দিবে।

যেদিন পাসপোর্ট ফিরায় দেয়ার কথা সেদিন গেলেই যে পাবেন তা শিওর না। এজন্য চলে যান এই লিংকে। এখানে অ্যাপ্লিকেশন আইডি আর পাসপোর্ট নাম্বার দিলেই দেখাবে আপনার ভিসার অবস্থা কী। যদি ১০ তারিখ দেয়ার কথা লেখা থাকে তাহলে ১০ তারিখ এই চলে যাবেন না। চেক করবেন। যদি দেখেন ভিসা স্ট্যাটাস প্রসেসিং দেখাচ্ছে তাহলে যাওয়ার দরকার নাই। যদি প্রসেসড দেখায় তাহলে বিকালের দিকে যাবেন। ৩.৩০-৫.৩০ পর্যন্ত ওনারা ফেরত দেয়ার কাজগুলা করেন।

অফটপিকঃ

  • ভিসা সেন্টার এ ফর্ম জমা নেয় ৮-১২.৩০, ৭ টায় যেয়ে লাইনে দাড়ালে কাজ সারতে পারবেন ৮.৩০ টার মধ্যে। ৮ টায় গেলে ১১ টা বাজবে। আর ১০ টার দিকে না যাওয়াই ভালো, পরে লাইনে দাঁড়ায় থাকবেন দুই ঘন্টা তারপর শুনবেন আজকের মত বন্ধ।
  • পাসপোর্ট ফেরত দেয় ৩.৩০-৫.৩০, সকালে যেয়ে হাত পা ধরে কাঁদলেও দিবে না, ফেরত আনার জন্য বিকালের দিকেই যান।
  • মনে রাখবেন দরকার আপনার, তাই বিনয়ের অবতার হয়ে থাকবেন, কারো সাথে যেয়ে অযথা রাগারাগি করবেন না। কোন কারণ ছাড়াই ওরা আপনার ফর্ম রিজেক্ট করে দিতে পারে।
  • ব্যাগ নিয়ে যাবেন না, রাখার জায়গা নাই।
  • পোর্ট অফ এন্ট্রি/পোর্ট অফ এক্সিট নিয়ে অনেকে টেনশনে ভোগেন, যা ইচ্ছা তা দিতে পারেন ওখানে, সমস্যা নাই এখন। এখন সবার জন্য সব পোর্ট উন্মুক্ত।
  • যদি কাউন্টারে বলে আহ হা ওই কাগজ তো লাগত, বলবেন ‘সরি, আনি নি ওইটা’, বলতে যাবেন না “ওইটা কেন লাগবে, এইটা দিছি না? এইটা দিলেই তো হয়”, মোট কথা তর্ক করবেন না।
  • কিভাবে সাজাবেন তা টেনশনের দরকার নাই। কাগজ গুলা শুধু নিয়ে যাবেন হাতে বা ফাইলে, ওইখানে বড় ব্যানার টানানো আছে কিভাবে কাগজ সাজাবেন তা লেখা আছে, ওইভাবে সাজিয়ে রাখবেন, কাউন্টারে যেয়ে কাগজ গুলা দিলে ওরাই স্ট্যাপল করে নিবে। (কিন্ত অবশ্যই কাগজ সাজিয়ে দিবেন।)

এই হল ইন্ডিয়ান ভিসা নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা এবং হালকা পাতলা উপদেশ। ভিসা পেতে আমার খরচ হল মোট ৬১৮ টাকা, ব্যাস এইটুকুই। দালাল দিয়ে আপনি করাতে পারেন, সেক্ষেত্রেও আপনার লাইন ধরতে হবে, মাঝ দিয়ে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা এক্সট্রা দিতে হবে (আরো বেশিও লাগতে পারে)। নিজের গাটের পয়সা খরচ করবেন কেন যেখানে আপনি ঘরে বসেই শান্তি মত সব করতে পারেন।

আর যারা এখনো বলেন যে ভিসা অ্যাপ্লিকেশন করতে কষ্ট, এই ঝামেলা সেই ঝামেলা; তারা আশা করি বুঝবেন এইসব আসলে বানানো কথা। যদি ইন্ডিয়া ঘুরতে যাবার ইচ্ছা থাকে তাহলে মানুষের কথায় কান না দিয়ে ভিসা অ্যাপ্লিকেশন করতে নিজেই বসে যান।

শুভকামনা…। (শাদনান মাহমুদ নির্ঝর)
https://blog.bdnews24.com/shadnanm/232209/

গ্রামীণফোনে যৌন হয়রানি ও সমকামিতায় উৎসাহ!

গ্রামীণফোনের সিডিএম শাখার একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এডমিনের ট্রেনিং শাখার এক নারী কর্মকর্তার রূপ-গুণে মুগ্ধ হন। সিডিএম শাখার ওই কর্মকর্তা ছিলেন বিবাহিত। আবার ট্রেনিং শাখার ওই নারী কর্মকর্তাও ছিলেন বিবাহিত। বিষয়টি জানার পরও ওই নারী কর্মকর্তাকে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন ওই কর্মকর্তা। ওই নারী কর্মকর্তা এমন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। এরপরই তার উপর খড়গ নেমে আসে। কারণে অকারণে তার ডিউটি টাইম নির্ধারণ করা হয় সন্ধ্যার পর থেকে।

রাতে অফিসে ওই নারী কর্মকর্তার ওপর চলে বিভিন্ন ধরনের মানসিক নির্যাতন। এতেও ওই নারী কর্মকর্তা দমে যাননি। একপর্যায়ে তাকে বরিশাল আঞ্চলিক অফিসে বদলি করা হয়। স্বামী-সন্তান ঢাকায় ফেলে বরিশাল যেতে চাননি তিনি। ফলে একটা পর্যায়ে বাধ্য হয়েই ওই নারী কর্মকর্তা চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। এতে তিনি সব ধরনের আর্থিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। গ্রামীণফোন থেকে এভাবে নির্যাতনের মুখে চাকরি ছেড়ে আসা একজন নারী কর্মকর্তা এ সব কথা বলেন। শুধুই একটি ঘটনা নয়, এমন অহরহ যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনে।

আবার গ্রামীণফোনে একশ্রেণির কর্মকর্তা আছেন যারা নারী কর্মীদের কাছ থেকে ‘ভাইয়া’ ডাক শুনতে পছন্দ করেন। কারণে অকারণে তাদের সঙ্গে আড্ডা দিতে চান। দুপুরে বা বিকালে এক সঙ্গে খাবারের অফারও দেয়া হয়। বিভিন্ন ধরনের আড্ডায় বড় কর্মকর্তাদের মনোরঞ্জন না করতে পারলে, তাকে পরবর্তীতে ডিউটি টাইম পরিবর্তন করে রাতে দেয়া হয়। এতে বিপাকে পড়ে অনেকে নারীই চাকরি ছাড়েন বা ‘ভাইয়া’দের খুশি করার চেষ্টা করেন। এ ছাড়া রাতের বেলা গ্রামীণফোনের কোনো অনুষ্ঠান থাকলে সেখানে নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিত হতে অনেকটাই বাধ্য করা হয়। অতিথিদের সঙ্গে নারী কর্মকর্তাদের মদপান করতেও উত্সাহিত করের ঊর্ধ্বতনরা।

ঢাকার বাইরে আঞ্চলিক অনুষ্ঠান, সভা ও প্রচারণার অংশ হিসাবে সুন্দরী নারী কর্মকর্তাদের বেশিরভাগ সময় সেখানে পাঠানো হয়। ওইসব স্থানে হোটেলে রাত্রিযাপনে গ্রামীণফোনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নারীদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে ঊর্ধ্বতনরা এলে তাদের সঙ্গে অফিসিয়াল প্রোগ্রামের নাম করে ঢাকার বাইরে পাঠানো হয় সুন্দরী নারীদের।

কিছুদিন আগেও এক নারী কর্মীকে ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার সঙ্গে কক্সবাজার পাঠানো হয়। সেখানে ওই কর্মকর্তা একটি বিলাসবহুল হোটেলে নারী কর্মকর্তাকে রাতে সুইমিং করার প্রস্তাব দেয়। ওই নারী কর্মকর্তা সুইমিং কস্টিউম পরে আসলেও তাতে ওই কর্মকর্তার মন ভরেনি। তিনি ওই নারীকে আরো শর্ট পোশাক পরে আসার প্রস্তাব দেন। বাধ্য হয়ে ওই নারী কর্মকর্তা সেদিন রাতে শর্ট পোশাক পরে সুইমিং করেন। ঢাকায় ফিরে ওই নারী চাকরি থেকে ইস্তফা দেন।

এভাবে মানসিক নির্যাতন সহ্য করেই অনেক নারী এখনো চাকরি করে যাচ্ছেন গ্রামীণফোনে। আর যাদের উপর নির্যাতনের পরিমাণ বেশি তাদের অনেকেই চাকরি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অফিস চলাকালীন সময়ে গ্রামীণফোনের নারী কর্মকর্তাদের ড্রেস কোড মেনে চলতে হয়। বিশেষ করে পশ্চিমা ঘরানার পোশাক বাধ্যতামূলক করা হয় সুন্দরী নারী কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে। যদিও গ্রামীণফোনে এ ধরনের ড্রেস কোড নেই। কিন্তু গ্রামীণফোনে তথাকথিত শীর্ষ কর্মকর্তারা তাদের মনবাঞ্ছা চরিতার্থ করতে, ইচ্ছা করেই নারী কর্মকর্তাদের ওপর প্রগতিশীলতার নামে ড্রেসে কোড চাপিয়ে দেয়। আবার রাজধানী বা রাজধানীর বাইরে কোনো অনুষ্ঠানে নারী কর্মকর্তাদের পশ্চিমা ধাঁচের ড্রেস কোড থেকেও ছোট পোশাক পরতে বাধ্য করা হয়। নারী কর্মকর্তাদের বলা হয়, ‘কর্পোরেট কালচারে এ সব মেনে চলতে না পারলে এখানে চাকরি করা যাবে না।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশে সমকামিতা নিষিদ্ধ হলেও গ্রামীণফোন বিভিন্নভাবে সমকামিতাকে উত্সাহিত করছে। সমকামিতার পক্ষে তারা বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে। সম্প্রতি গ্রামীণফোনের অর্থায়নে নির্মিত সমকামিতা নিয়ে একটি নাটক একটি টেলিভিশন চ্যানেল প্রচার করে বিপাকে পড়ে। পরে বাধ্য হয়ে ওই টেলিভিশন চ্যানেলটি নাটক প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়।

জানা গেছে, এর মধ্যে সমকামিতার পক্ষে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানেও অর্থ দিয়েছে গ্রামীণফোন। মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে এই ধরনের বিকৃত রুচির বিষয়গুলো ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিক অবক্ষয়ের কাজটিও গোপনে করে যাচ্ছে গ্রামীণফোন।

সূত্র: ইত্তেফাক

Abortion

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী তিনি। ভালোবাসেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রকে। তাদের দুইজনের বাড়িই রংপুরে। একই কলেজে পড়ার সুবাধে তাদের মধ্যে গড়ে উঠে প্রেমের সম্পর্ক। সময় পেলেই একে অন্যের কাছে ছুটে যেতেন। এভাবেই তাদের এ ভালোবাসা গড়ায় শারীরিক সম্পর্কে। এ বছরের শুরুতে তাদের সামনে নেমে আসে কালো ছায়া। প্রেমিকা বুঝতে পারেন গর্ভধারণ করেছেন। তার বয়ফ্রেন্ডকে জানালে তিনিও চিন্তিত হয়ে পড়েন। এমন ঘটনা জানাজানি হলে সমাজে লজ্জায় মুখ দেখাতে পারবেন না। এ অবস্থায় সিদ্ধান্ত নেন গর্ভপাত ঘটানোর। দুজনই চলে আসেন ঢাকায়। স্বামী-স্ত্রী পরিচেয়ে ভর্তি করা হয় রাজধানীর স্বনামধন্য একটি হাসপাতালে। কিন্তু তাতে বাদ সাধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা কোনো ধরনের গর্ভপাত করান না। চোখে-মুখে অন্ধকার যেন ভর করছে তাদের ওপরে। কূলকিনারা না পেয়ে হাসপাতালেরই আয়া মাহফুজা খানমের দেয়া ঠিকানা মতে কল্যাণপুরের এক ক্লিনিকে যান। এ মাহফুজাই দালালের ভূমিকা পালন করেন ওই ক্লিনিকের। কল্যাণপুরে এ ক্লিনিকে ২০ হাজার টাকার চুক্তিতে নাদিয়ার গর্ভপাত করানো হয়। গর্ভপাতের পর ওই প্রেমিকা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েন। প্রচুর রক্তক্ষরণের ফলে তিনদিনে ১০ ব্যাগ রক্ত দিতে হয় তাকে। শুধু এই প্রেমিক জুটিই নন। এরকম হাজারো জুটি অনিরাপদভাবে গর্ভপাত ঘটান দেশে। শুধু অবৈধ গর্ভপাত নয়, স্বামী এবং স্ত্রীর ভুলে গর্ভধারণ করা দম্পতিও গর্ভপাত ঘটাচ্ছে অহরহ। এভাবে গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে কেউ কেউ মৃত্যুর কোলে ঢলে পরেন। মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে আসার অভিজ্ঞতাও রয়েছে কারো। অনেকে আবার পরবর্তীতে আজীবনের জন্য মাতৃত্বের স্বাদ হারান। রাজধানীসহ দেশের আনাচে-কানাচে এমন অসংখ্য হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। যেখানে গর্ভপাত ঘটানো হচ্ছে। বেআইনি এ কাজ করেন হাতুড়ে ডাক্তার, নার্স এমনকি ক্লিনিকের আয়া। বৈধতা না থাকায় গর্ভপাত করাতে তাদের গুনতে হয় বড় অঙ্কের টাকা। অথচ দেশের আইনে গর্ভপাত দণ্ডনীয় অপরাধ।

মার্তৃস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, মায়েরা প্রজনন স্বাস্থ্য, জন্মধারণ, জন্মনিয়ন্ত্রণ এবং মাসিকের সঠিক সময় সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত নন। এ কারণেই অনেকে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ করেন। পরিবার ও পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাতৃ ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যবস্থাপক ফাহমিদা সুলতানা বলেন, প্রথমত তারা জন্মনিয়ন্ত্রণ, এমআর পদ্ধতি সম্পর্র্কে জানেন না। যারা জানেন তারা লোকলজ্জার ভয়ে স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে যান না। ফলে গর্ভপাত করিয়ে থাকেন। অনেক সময় দেখা যায়, হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণে এমআর করতে আসা ব্যক্তিকে ফিরে যেতে হয়। গর্ভের ভ্রূণ বড় হওয়ায় এমআর করা যাবে না বলে তাদের ফিরিয়ে দেয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। উপায়ান্তর না পেয়ে তারা অদক্ষ ও হাতুড়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েন।

স্বামীর পাজরের হাড় দিয়ে স্ত্রীকে তৈরী করা হয়নি

সূরা আন নিসা’র ১নং আয়াতে আল্লাহপাক উল্লেখ করেছেন:
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاء وَاتَّقُواْ اللّهَ الَّذِي تَسَاءلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا
হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্ঝা করে থাক এবং আত্নীয় জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন।

আবার অন্য এক জায়গায় আল্লাহপাক বলেছেন: (সূরা: আল আ’রাফ | আয়াত: ১৮৯)
هُوَ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِيَسْكُنَ إِلَيْهَا فَلَمَّا تَغَشَّاهَا حَمَلَتْ حَمْلاً خَفِيفًا فَمَرَّتْ بِهِ فَلَمَّا أَثْقَلَت دَّعَوَا اللّهَ رَبَّهُمَا لَئِنْ آتَيْتَنَا صَالِحاً لَّنَكُونَنَّ مِنَ الشَّاكِرِينَ
তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদিগকে সৃষ্টি করেছেন একটি মাত্র সত্তা থেকে; আর “তার থেকেই তৈরী করেছেন তার জোড়া”, যাতে তার কাছে স্বস্তি পেতে পারে। অতঃপর পুরুষ যখন নারীকে আবৃত করল, তখন, সে গর্ভবতী হল। অতি হালকা গর্ভ। সে তাই নিয়ে চলাফেরা করতে থাকল। তারপর যখন বোঝা হয়ে গেল, তখন উভয়েই আল্লাহকে ডাকল যিনি তাদের পালনকর্তা যে, তুমি যদি আমাদিগকে সুস্থ ও ভাল দান কর তবে আমরা তোমার শুকরিয়া আদায় করব।

উপরের আয়াত দুটি বিশ্লেষন করলে দেখা যায়, “তোমাদেরকে/তোমাদিগকে সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে/একটি মাত্র সত্তা থেকে”। এখানে তোমাদেরকে/তোমাদিগকে বলতে সমগ্র মানবজাতিকে বুঝিয়েছেন। কেবলমাত্র পুরুষজাতিকে নয়। তাহলে সমগ্র মানবজাতিকে তিনি একটি মাত্র সত্তা বা ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন। আর “বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী”। একথা বলা হয়নি যে প্রত্যেক পুরুষ থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন।

এবার একটি হাদিস শুনি:
আবু হুরায়রা সূত্রে ইমাম বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
اسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ فَإِنَّ الْمَرْأَةَ خُلِقَتْ مِنْ ضِلَعٍ وَإِنَّ أَعْوَجَ شَيْءٍ فِي الضِّلَعِ أَعْلَاهُ، فَإِنْ ذَهَبْتَ تُقِيمُهُ كَسَرْتَهُ، وَإِنْ تَرَكْتَهُ لَمْ يَزَلْ أَعْوَجَ فَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ

তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যহার করবে। কেননা তাদেরকে সৃষ্টী করা হয়েছে পাঁজরের হাড় থেকে এবং সবচেয়ে বাঁকা হচ্ছে পাঁজরের ওপরের হাড়। যদি তুমি তা সোজা করতে যাও, তাহলে ভেঙে যাবে। আর যদি তুমি তা যেভাবে আছে সে ভাবে রেখে দাও তাহলে বাঁকাই থাকবে। অতএব, তোমাদেরকে ওসীয়াত করা হল নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যহার করার। (সহিহ বুখারী)

স্ত্রী: এখানে তো বলা আছে, পাঁজরের হাড় থেকে

স্বামী: ঐ হাদিসটা বুখারী ৪৮০৭
… এই পাজরের হাড়ের ব্যাখ্যা তার আগের হাদীসে পাবা

…..৪৮০৬ আবদুল আযীয ইব’ন আবদুল্লাহ (রহঃ) হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নারীরা হচ্ছে পাঁজরের হাড়ের ন্যায়। যদি তোমরা তাকে একেবারে সোজা করতে চাও, তাহলে ভেঙ্গে যাবে। সুতরাং, যদি তোমরা তাদের থেকে লাভবান হতে চাও, তাহলে ঐ বাঁকা অবস্থাতেই লাভবান হতে হবে। (বুখারী)

স্ত্রী: আচ্ছা বুঝলাম…

স্বামী: ঐ দুইটা হাদীসের ফোকাস কিন্তু স্ত্রীর সাথে সদব্যবহারের। কিন্তু এই ফোকাস দূরে রেখে বোঝানো হয় নারীরাই বাঁকা স্বভাবের!!! এইটা ঠিক না। আমাদের বুঝার ভুল

স্ত্রী: হুম্মম

স্বামী: হাদীস দুটায় দেখ কোথাও বলেনাই তোমাদের (স্বামী বা আদমের) পাজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

স্ত্রী: রাইট

স্বামী: আর পাজরের হাড় দিয়েও সদব্যবহার বোঝানো যায়। কিভাবে জানো, পাজরের হাড় আমাদের হৃদয়ের নিকটবর্তী। স্বত্রীর স্থান স্বামীর হৃদয়ে, তার সাথে সদ্ব্যবহার করবে, তার ক্ষমতার অধিক চাপ সৃষ্টি করবে না, তার সাথে ইনসাফ করবে এটাই হাদিসটির মূল শিক্ষা।

স্ত্রী: অল্পজ্ঞানের ভয়ংকর বিদ্যা!

পরিশেষে একটি কথা বলা যায়, যেসব মহিলা তালাক প্রাপ্ত হয়ে বা স্বামী মারা যাওয়ার কারনে অন্য পুরুষের সাথে বিয়ে করেন। তাহলে তারা কিসের থেকে সৃষ্টি বা কতজন পুরুষের পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি? বা অনেকের বিয়ে-ই হয় না কিংবা তার পূর্বে মারা গেলেন তাহলে তারা কার পরজড়ের হাড় থেকে সৃষ্টি হয়েছেন।

তাই কোরআন ও হাদিসের আলোকে একথা বলা যায় যে, আল্লাহপাক সর্বপ্রথম হযরত আদম (আ:) কে সৃষ্টি করেছেন। এরপর তার থেকে হযরত হাওয়া (আ:) কে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের দু’জন থেকে পর্যায়ক্রমে সমগ্র মানবজাতি সৃষ্টি করে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে ছিয়েছেন।

Collected

সেলফিতে বাড়ে মানসিক সমস্যা!

ড্যানি বোম্যান থাকেন যুক্তরাজ্যে। ১৯ বছরের এই তরুণের ঘণ্টায় কয়েকটা করে সেলফি না তুললেই নয়। দিনে ১০ ঘণ্টা তিনি ব্যয় করেন মোবাইলের ক্যামেরার সামনেই। একপর্যায়ে সেলফির নেশায় গুরুতর মানসিক সমস্যায় পড়েন ড্যানি। কমতে থাকে ওজন। কাঙ্ক্ষিত মানের সেলফি তুলতে না পারায় বাড়তে থাকে হতাশা। একপর্যায়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও চালান ড্যানি। সে যাত্রা অবশ্য মায়ের কল্যাণে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন ড্যানি। পরে পুনর্বাসন কার্যক্রম ও মানসিক চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল

ডিআইওয়াই হেলথ অ্যাকাডেমিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেলফি তোলার সঙ্গে আত্মমগ্নতা বা আত্ম মুগ্ধতার (নার্সিজম) সম্পর্ক রয়েছে।নিখুঁত সেলফি তোলার জন্য বারবার চেষ্টা করতে গিয়ে তা একসময় নেশায় পরিণত হতে পারে। আবার নিজের নিখুঁত ছবিটি তুলতে না পারার ব্যর্থতা অযাচিত হতাশার জন্ম দিতে পারে।

ওই প্রতিবেদনে মনোরোগ চিকিৎসক ডেভিড ভিল বলেছেন, তাঁর কাছে যত রোগী আসেন-তার প্রতি তিনজনের দুজন বডি ডিসমরফিক ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত থাকেন। এটি এমন এক ধরনের মানসিক সমস্যা,যার কারণে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের চেহারার খুঁত নিয়ে অনবরত চিন্তায় থাকেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে এ সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রচুর পরিমাণে সেলফি তোলেন এবং সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করেন। সেখানে অন্যান্য পরিচিতজনদের করা মন্তব্য থেকেই ধীরে ধীরে তাঁরা এই রোগে আক্রান্ত হন। হাফিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক গবেষণাতেও দেখা গেছে যে, যারা অনলাইনে নিজেদের বেশি বেশি ছবি আপলোড করেন, তাঁরা আত্ম মুগ্ধতা ও নানা ধরনের মানসিক সমস্যায় ভোগেন।

প্রাথমিকভাবে একজন কম আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তি তাঁর সেলফি আপলোড করে লাইক ও কমেন্ট পেয়ে উৎসাহিত বোধ করতেই পারেন। কিন্তু তিনি যদি সামাজিক মাধ্যমকেই তাঁর আত্মবিশ্বাসের উৎস হিসাবে বিবেচনা করেন, তবেই ভুল হবে। কারণ এই ডিজিটাল মাধ্যম কোনোভাবেই আত্মবিশ্বাস ও অনুপ্রেরণার সুস্থ উৎস হতে পারে না এবং তা থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়া সব সময় ইতিবাচকও হবে না। ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি নির্ভরশীল ব্যক্তিদের এক সময় হতাশায় নিমজ্জিত হতে হয়। আর তখনই ঘটে বিপত্তি। তাই সেলফি তোলায় যত কম সময় ব্যয় করা যায়, ততই মঙ্গল।

উৎস: প্রথম আলো

Pregnancy Awareness

কোন ভঙ্গিতে ঘুমাচ্ছেন
যাঁরা মা হতে যাচ্ছেন, শেষ তিন মাস কীভাবে বা কোন ভঙ্গিতে ঘুমাচ্ছেন, তা নিয়ে অন্তত দুবার ভাবুন। কারণ, গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে যেসব নারী বিছানায় পিঠ দিয়ে চিত হয়ে ঘুমান, তাঁদের ক্ষেত্রে মৃত সন্তানের জন্ম দেওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ। সম্প্রতি এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, গর্ভবতী নারী যখন চিত বা উপুড় হয়ে ঘুমান, তখন গর্ভাশয়ের ওজন বেড়ে যায়, যা রক্তনালির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এতে গর্ভের শিশুর শরীরে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ ব্যাহত হয়। আরেকটি অনুসিদ্ধান্তে গবেষকেরা বলেছেন, গর্ভবতী নারী চিত বা উপুড় হয়ে ঘুমালে গর্ভের শিশুর শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

শুধু যে ঘুমানোর ভঙ্গির ওপর মৃত সন্তান প্রসবের ঝুঁকি বেড়ে যায়, তা কিন্তু নয়। এর সঙ্গে আরও অনেক বিষয় জড়িত। সন্তানসম্ভবা কোনো নারী যদি রাতে বারবার শৌচাগারে যান ও প্রতিদিনই দিনের বেলা ঘুমান, তাহলেও এই ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

একপাশে কাত হয়ে ঘুমানোর জন্য বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে রিসার্চ সেন্টার। সেগুলো হলো:
ঘুমাতে যাওয়ার সময় কাত হয়ে শুয়ে পিঠের দিকে কয়েকটি বালিশ রেখে দিন। এতে কাত হওয়া থেকে হঠাৎ করে চিত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না।
রাতে কোনো কারণে ঘুম ভেঙে গেলে, ঘুমানোর ভঙ্গিটি দেখে নিন। এরপর আবারও পাশ ফিরে ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
দিনে অল্প সময়ের জন্য ঘুমাতে গেলেও রাতের মতো ঘুমানোর ভঙ্গির প্রতি গুরুত্ব দিন। পাশ ফিরে ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

উৎস: প্রথম আলো